চাঁপাই খবর
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনপ্রিয় হয়েছে চিনাবাদাম চাষ। জেলার সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে চিনাবাদামের চাষাবাদ। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে সদর উপজেলায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় প্রায় ৫০০ বিঘা, শিবগঞ্জ উপজেলায় ২০০ বিঘা, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় ১৫ বিঘা করে এবং ভোলাহাট উপজেলায় ২১ বিঘায় চিনাবাদাম চাষাবাদ করা হয়েছে।
এর মধ্যে বিশেষ করে চর এলাকায় পলি পড়া পতিত জমিতে চিনাবাদাম চাষে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছে। আর তাই গতবার ১০০ বিঘায় চাষ হলেও এবার ৫০০ বিঘায় হচ্ছে। চিনাবাদামের গাছও ভালো হয়েছে। ফলনও ভালো হবে বলে কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা আশা করছেন। এক কথায়, এখন চিনাবাদামে স্বপ্ন বুনছেন চরের কৃষকরা।
সদর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশের চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের রানীনগর ও হাকিমপুর ব্লকে জেগে ওঠা পদ্মার চরে প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ চরের বুক চিরে জেগে উঠেছে সবুজের সমারোহ। কৃষকরা বুনছেন স্বপ্ন। রানীনগর চরের কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত তাদের খোঁজখবর রাখছে এবং কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন পরমার্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
রানীনগর ব্লকের কৃষক মহবত আলী জানান, গতবছর কৃষি অফিসার স্যারের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছিলাম। লাভ হওয়ায় এবছরও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে চর প্রকল্পের প্রদর্শনীসহ প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছি।
শুধু মহবত আলী নয়, তার মতো ফরিদ উদ্দীন, সেন্টু, শামীমসহ অন্য কৃষকরাও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় চিনাবাদামের চাষ করে ভাগ্য উন্নয়নের আশায় স্বপ্ন বুনছেন।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সুনাইন বিন জামান বলেন— গতবছর রানীনগরে জেগে ওঠা চরে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষাবাদ করা হয়েছিল। এ বছর চর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. জিয়াউর রহমান স্যারের এবং বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) চাঁপাইনবাবগঞ্জের সহযোগিতায় রানীনগর ও হাকিমপুর ব্লকের ২৪ জন কৃষক চিনাবাদামের প্রদর্শনীমূলক চাষাবাদ করছেন।
তিনি বলেন— কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, পরামর্শ এবং নিয়মিত মাঠগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। এ বছর প্রায় ৫০০ বিঘা পতিত জমিতে চিনাবাদামের চাষ হচ্ছে যা কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন— এ বছর এখন পর্যন্ত চিনাবাদাম ফসলের সার্বিক অবস্থা ভালো। সর্বোচ্চ ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করে সুনাইন বিন জামান বলেন— যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তবে এ বছর প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মণ চিনাবাদামের ফলন হবে, যার বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটি টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন— চর প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে এলাকা উপযোগী ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করে পতিত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি করা। যার অংশ হিসেবে জেলায় চিনাবাদামের চাষাবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে এবার সদর উপজেলার প্রত্যন্ত চরে চিনাবাদামের চাষাবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং পতিত জমির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সাফল্য কৃষি বিভাগ সামনেও ধরে রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এ ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।