চাঁপাই খবর ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের ব্যাপক প্রচারে মাঠে নেমেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার উপলক্ষে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় মহিলা সংস্থার আয়োজনে চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন মাসুদ।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন— জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিক আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিক আজিজসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকার নারী ভোটাররা অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায় বিকেলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদারের নেতৃত্বে ভোটারদের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
এ সময় নাচোল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার, নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ আছলাম আলী, আনসার ভিডিপিসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার জানান, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
প্রসঙ্গত, গণভোটের প্রচারণার বিষয় হচ্ছে— “আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে— তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে। সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন— ইন্টারনেট সেবা কখনো বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।
‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে উপরের সবকিছু পাবেন। ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনারই হাতে।”