চাঁপাই খবর
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং রাস্তা যানজট মুক্ত করতে কোনো কোনো পেট্রোল পাম্পে পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। তেল পাওয়ার আশায় অনেক চালককে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরতে দেখা যায়। কোনো পাম্পে ডিজেল শেষ হয়ে গেছে। ছুটির কারণে তেল কম পাওয়ায় এমন পরিস্থিতি বলে জানা গেছে।
যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
কোনো চালক যেন বঞ্চিত না হন সেজন্য এমনটি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা শহরের মেসার্স এমদাদুল হক অ্যান্ড সন্স পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক সামসুল আলম। তিনি জানান, এই পাম্পে দুই দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের চাহিদা ৯ হাজার লিটার করে। সেখানে গত ১৬ মার্চ চাহিদামাফিক ডিজেল পেলেও আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ডিজেল পাইনি। ফলে গ্রাহকদের ডিজেল দিতে পারছি না। তাছাড়া (গত সোমবার) পেট্রোল পেয়েছি অর্ধক। একদিনেই বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার লিটার। আজ মঙ্গলবার থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকার তেল দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, কোনো মোটরসাইকেলের চালক পরিবর্তন করে দুই থেকে তিনবার তেল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।
এখানে দায়িত্বরত এসআই রাসেল জানান, সকাল ৮টা থেকে এই রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন।
এই পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের লাইন পাম্প থেকে কালেক্টরেট শিশু পার্ক পর্যন্ত দেখা গেছে।
এসআই রাসেলসহ পুলিশ সদস্যরা যানজট নিরসনে কাজ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৩২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। সাত দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।
সংগঠনটির সভাপতি রাশিদুল হাসান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-সংক্রান্ত অস্থিরতার প্রভাবের কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এক সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। এ কারণে পাম্পগুলোও গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ দিতে পারছে না।