শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী অপরাধ করলেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না শীত কিছুটা বাড়বে, তবে আগামী সপ্তাহ থেকে বাড়বে তাপমাত্রা ৫৩ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ ও গরু জব্দ চাকরি হলো তিনজনের প্রতিশ্রুতি ৬৭ জনকে পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্ট : ৫টি ট্রাক চালককে জরিমানা ডোপ টেস্টে কোনো শিক্ষার্থী পজিটিভ হলে ভর্তি হতে পারবে না : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক নিয়ন্ত্রণে দিকনির্দেশনা দিলেন মহাপরিচালক নারী উদ্যোক্তাদের পাঁচ শতাংশ সুদে ক্ষুদ্রঋণ দেবে ব্যাংক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় হারুনের শিবগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন ও নারী উঠান বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী অপরাধ করলেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২ বার

চাঁপাই খবর

 

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ৫৪ বছরে শাসন হোক আর অপশাসন হোক মানুষ দেখেছে। ওটা দেখতে দেখতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। পুরাতন বন্দোবস্তের রাজনীতি আর দেখতে চায় না। জুলাই যোদ্ধারা সেদিন রাস্তায় নেমে বলেছিল, “‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ আমরা সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার চায়।” তার মানে হলো দেশে ন্যায়বিচার নেই। সেই ন্যায়বিচার আমরা প্রতিষ্ঠা করব।
তিনি বলেন, রাজার জন্য যে বিচার, সকলের জন্যও সেই একই বিচার। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে বিচারে যেমন শাস্তি হবে, দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীও একই ধরনের অপরাধ করলে তাদেরকেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। সেই বিচার আমরা বাংলাদেশে কায়েম করতে চাই। এই বিচার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সাঁওতাল নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী, সকলের জন্য। এই বিচার যখন কায়েম করা হবে, বাংলাদেশে আর কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না। চাঁদাবাজির রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। চাঁদাবাজদের ধরে এনে কাজে নিয়োগ দেয়া হবে। তারাও সেদিন কাজ করে দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াত আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির আরো বলেন— দুর্নীতি যারা করে তাদের দুর্নীতি করার প্রয়োজন হবে না। দুটি কারণে মানুষ দুর্নীতি করে, একটি হলো লোভ আর একটি হলো বাধ্য হয়ে। সামরিক বাহিনী, পুলিশ র‌্যাবসহ আধাসরকারি বাহিনীর সদস্যদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন— আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাত নেই, দিন নেই ২৪ ঘণ্টা অন ডিউটি পাগল হয়ে দৌড়ায়। তাদেরকে যদি ৮ ঘণ্টা ডিউটি করার লোকদের সমান বেতন দেয়া হয় তাহলে সেটা কি ইনসাফ হবে? হবে না, সেটা হবে চরম বেইনসাফি। আমরা বৈষম্য দূর করতে চাই। একজন কর্মচারী-কর্মকর্তা, সে সরকারি-বেসরকারি, আধাসরকারি, স্বায়িত্তবশাসিত যেখানে হোক, সে যেন তার মেধা উজাড় করে সেবা দিতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা করব। আর রাষ্ট্র ও নিয়োগকারী সংস্থাও যেন তাদের সম্মানের সাথে বসবাস করার মতো সুযোগ-সুবিধা করে দিতে পারে আমরা তা নিশ্চিত করব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের যুবক-যুবতীরা বেকার ভাতার জন্য আন্দোলন করেনি, তারা কাজের জন্য আন্দোলন করেছে। আমরা ওয়াদা করছি, তোমাদের হাতে অপমানের বেকার ভাতা আমরা তুলে দিব না। বরং তোমাদের হাতগুলো আমরা দক্ষ বানিয়ে তোমাদের মর্যাদাপূর্ণ কাজ দিব। সেদিন তোমরা দেশ গড়বে। তৈরি হয়ে যাও, তোমাদের জন্যই আমরা এই দেশ গড়তে নেমেছি, তোমাদের হাতেই এই দেশের ভার আমরা তুলে দিতে চাই। বাংলাদেশ নামের যে উড়োজাহাজ, সেই উড়োজাহাজের চালকের সিটে বসবে যুবকরা আর আমরা বসব পেছনের যাত্রীর সিটে। যুবকরা রকেট গতিতে দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। পেছনে ফিরে তাকাবার আর আমাদের সময় নেই। সকল জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত মানুষকে বুকে ধারণ করে আমাদের এই যাত্রা শুরু।
নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন— মা-বোনদের কাছে আমার অঙ্গীকার, আপনাদের বহুবিধ অবদান, তার একটিরও প্রতিদান দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, আপনাদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু দুটি জিনিস আমরা মা-বোনদের জন্য নিশ্চিত করতে চাই। একটি হলো সমাজের সকল স্তরে আপনাদের অধিকার ও মর্যাদা এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আজকে আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে পুরুষরা পাবে তাদের অধিকার এবং নারীরা পাবে তাদের অধিকার। কোনো জালিম আমার কোনো মা-বোন বা মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকাবার সাহস পাবে না। সেই নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা মায়েদের জন্য গড়তে চাই। ঘরে চলাচলে কর্মস্থলে সবস্তরে নারীরা নিরাপদে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে একটি উর্বর জেলা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন— এই জেলা হচ্ছে আমের রাজধানী, লিচুর রাজধানী, এখানে আরো অনেক কিছু উৎপাদন হয়। কিন্তু আসার সময় দেখলাম, মহানন্দা নদী এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা নদীগুলোকে জীবন্ত করে তুলব। নদীমাতৃক যোগযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলব, পদ্মায় যেখানে ব্যারেজ দিলে পানি পাওয়া যাবে, সেখানেই ব্যারেজ করা হবে। এই আমের রাজধানীতে আম সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার নেই, আমরা ঘোষণা দিয়েছি গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় দরকার সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে, যেখানে গবেষণাগার দরকার, সেখানে তাই করা হবে। আম এবং লিচুর প্রসেসিং করে সারা বছর খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হবে এবং বিশ্বেও রপ্তানি হবে। এভাবে দেশে এবং বিশ্বে আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে তুলে ধরতে চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন— আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট। একটি হচ্ছে— পুরনো বন্দোবস্তকে লাল কার্ড আর অন্যটি হচ্ছে নতুন বন্দোবস্তকে স্বাগত। এর জন্য হ্যাঁতে ভোট দিতে হবে। হ্যাঁ মানে আজাদি আর না মানে গোলামি।
নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুজার গিফারী। এতে বক্তব্য দেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল- গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান, জামায়তের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ নজুরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাবেক এমপি লতিফুর রহমান, মুখলেশুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহা. ইসাহাক, ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ইব্রাহিম রনি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির গোলাম রাব্বানী ও সেক্রেটারি আব্দুল আলিমসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া জামায়াতের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির জেলা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামও বক্তব্য দেন।
সকাল ৯টার দিকে থেকেই জামায়াত-শিবির ও কর্মী-সমর্থকরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা থেকে জনসভাস্থলে আসতে থাকেন। সকাল সাড়ে ১০টায় নির্ধারিত সময়ে শুরু হয় জনসভার কার্যক্রম। একদিকে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য চলতে থাকে অন্যদিকে নেতাকর্মী-সমর্থকরাও আসতে থাকেন। একপর্যায়ে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়।
দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে জামায়াত আমিরকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি সরকারি কলেজের পাশে পুরাতন স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। এরপর তিনি জনসভা মঞ্চে ওঠেন এবং বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্য শেষে তিন প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।
এর আগে নওগাঁ শহরের এটিম মাঠের জনসভায় বক্তৃতা করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2009-2022 chapaikhobor24.com # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com